মা চিন্ময়ীস্বরূপা, কিন্তু চির স্থির নয়। তিনি পরাশক্তি। মায়ের ক্ষয় নেই, বিবর্ণতা নেই। তিনি স্ব-মহিমায় সর্বদা উজ্জ্বল। এ জগতের সবই মাতৃঅঙ্গে স্থিত।
তিনি উমা পার্বতী, দক্ষকন্যা সতী, দুর্গা, রণরঙ্গিনী চণ্ডিকা প
রভৃতি বিবিধ নামাঙ্কিতা। আবার তিনিই লোককথায় কখনও মা মেলাই চণ্ডী, কখনও বা ব্যাঘ্ররূপিণী দক্ষিণা কালী।
মা কালীকে নিয়ে বিবিধ গ্রন্থ, তত্ত্বসার ও ক্ষেত্রসমীক্ষা রয়েছে। তিনি বাঙালির প্রাণের স্পন্দনে তিরতির করে বয়ে চলা এক চিরপ্রবহমান নদী। তাতে মহার্ঘ্য প্রস্তরখণ্ড থেকে দুই পাড়ের মাটি সবই এসে পলি হয়ে মিশেছে। রাজা, উজির, সাধক, ভিখারি, অজস্র রচয়িতা, অজস্র পদ, অজস্র সুর-সব মায়ের নামেই উৎসর্গীকৃত।
'কালী কথা'-র পরে 'কালী কথা: দ্বিতীয় খণ্ড' সেই মুকুটে আরেকটি নতুন পালকের সংযোজন। এখানে মা কালী যেমন আছেন, তেমনি আছেন মা দুর্গা। একই মুদ্রার দুই পিঠ। তিনি কখনও অসুরদলনী মা চামুণ্ডা, আবার তিনিই করুণাময়ী মা অন্নপূর্ণা।
মায়ের স্বরূপ ব্যাখ্যা করা সাধারণ মানুষের অসাধ্য।
তবু যদি তাঁর মহিমার কণামাত্রও এই বইয়ের মাধ্যমে পাঠক উপলব্ধি করতে পারেন, সেখানেই সার্থকতা।
...