বিংশ শতকের তৃতীয় দশকে ছোটোদের পত্রিকা ‘মৌচাকে’র পাতায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে লাগল ‘যখের ধন’। বাংলা কিশোর সাহিত্যে সেই প্রথম এল রহস্যঘন দুঃসাহসিক অভিযানের কাহিনি। বিপদ আর দুঃসাহসের সেই দ্বন্দ্বযুদ্ধে
র কাহিনি চুম্বকের মতো আকর্ষণ করল সব বয়সের পাঠকদের যার স্রষ্টা হেমেন্দ্রকুমার রায় (১৮৮৮-১৯৬৩)। যাঁর খ্যাতি মূলত শিশু সাহিত্যিক রূপে হলেও তাঁর প্রতিভার ক্ষেত্র ছিল বহুধাবিস্তৃত। সে যুগে বাংলা থিয়েটার ও গ্রামোফোন রেকর্ডে গাওয়া গানের প্রচলিত রীতি ও রুচির মোড় তিনি ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। চিত্রশিল্পী হওয়ার সুবাদে ‘বাংলা শিল্প’ ও ‘মঞ্চাভিনয়ে’র সমালোচনা সাহিত্যের অগ্রদূত, সেইসঙ্গে অজস্র গল্প, উপন্যাস, কবিতা, অনুবাদ, স্মৃতিচারণা ও প্রবন্ধের রূপকার ও সম্পাদনায় দক্ষতা। বিশেষত বাংলার শিশু-কিশোর সাহিত্যকে অ্যাডভেঞ্চার ও গোয়েন্দা কাহিনির স্বাদ পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর কৃতিত্ব অনস্বীকার্য। এ প্রসঙ্গে তাঁর অসামান্য দক্ষতা প্রতিভাত হয়েছে ঐতিহাসিক গল্প ও রচনায় এবং অনিবার্যভাবেই তাঁর কলমের ভৌতিক ও আতঙ্ক কাহিনি আর এক রোমাঞ্চ পর্বের সুচনা করে। তাঁর সৃষ্ট অভিযান কাহিনির নায়ক বিমল কুমার এবং অপরাধ কাহিনির নায়ক জয়ন্ত-মানিক প্রায় আট দশক ধরে পাঠকদের পরিচিতির বৃত্তে অবস্থান করেছে।
...