দেশ বিদেশের গুপ্তচর ১
কৌশিক রায়
৫২০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি সময়ে চৈনিক সেনাধ্যক্ষ সান য়ু (Sun Tzu) 'আর্ট অফ ওয়্যার' গ্রন্থে লিখেছিলেন- 'শত্রুকে এবং নিজেকে যে জানে সে একশো সমস্যাতেও বিপন্ন হবে না।' এই বইটি
ে যুদ্ধবিদ্যার অন্যতম এক প্রাচীন কৌশলগত গ্রন্থ বলে মনে করা হয়। এই বইয়েই যুদ্ধবিদ্যায় গুপ্তচরদের যে বিশেষ গুরুত্ব আছে তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বলা হয়েছে। আবার কৌটিল্য অর্থশাস্ত্রেতেও কোনো শাসকের সুশাসন ও যুদ্ধ জয়ের জন্য যে গুপ্তচরদের বিশেষ ভূমিকা আছে তা বলে গেছেন।
অন্যদিকে বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেনের 'বুক অফ জস্যুয়া'-তে রেহাব নামক এক মহিলার উল্লেখ পাওয়া যায় যিনি দু'জন গুপ্তচরকে আত্মগোপন করতে সাহায্য করেছিলেন। পুরোনো গ্রন্থগুলিতে এরপরেরও দীর্ঘ সময় ধরে গ্রিক, রোমান, মোঙ্গল ও জাপানিদের মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তির বিভিন্ন তথ্যাদি লক্ষ করা যায়। কিন্তু গুপ্তচরেরা যেহেতু আড়ালে থেকেই সম্রাটদের যুদ্ধ জয়ে সহায়তা করতেন তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের পরিচয় কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। পুরাকাল থেকে আধুনিক সময় পর্যন্ত বিস্মৃতপ্রায় সেই রকম কুড়িজন গুপ্তচরকে খুঁজতেই আমাদের এই যাত্রা....
মহাভারত থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইতিহাস-বিস্মৃত কিন্তু দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা নেওয়া এই সব দেশহিতকর গুপ্তচরদের জন্য পাঠ্য বই একটি লাইনও খরচ করেনি, আদতে পর্দার আড়ালে কাজ করতে করতে তাঁরা পর্দার আড়ালেই থেকে গেছেন। সারা বিশ্বের তেমনই ২০ জন গুপ্তচরের দুর্ধর্ষ কীর্তি সমন্বিত, ফিকশনের আড়ালে ননফিকশন লেখা এই বই হার মানায় কল্পিত যে-কোনো থ্রিলার কিংবা রহস্য-রোমাঞ্চ সিরিজকেও। সাধে কী আর বলে- 'Truth is stranger than fiction..."
...