দার্জিলিং একটা আবেগের নাম।
দার্জিলিং নামটা শুনলেই মনে হয় আবার ছোটোবেলায় ফিরে যাওয়া গেল। প্রথম দার্জিলিং যাওয়া আর এতদিন পর আবার দার্জিলিং যাওয়ার উত্তেজনার অবশ্য কোনো পার্থক্য নেই। মনে হয় যেন সুযোগ পে
েই আরেকবার যাওয়া যায়। এই ভালোবাসা শেষ হবার নয়।
তবে এই বইটি কিন্তু ছোটোবেলার গল্প বলে না। কুয়াশা, আবেগের টানাপোড়েন, রহস্য, মৃত্যু, অহংকার, রাগ, প্রতিহিংসা, ব্যর্থতা— সব কিছুকে এক সুতোয় গেঁথে রেখেছেন লেখক বইটিতে। অভীক দত্তর সুনিপুণ লেখনীর পরিচয় পাওয়া যায় বইটির পাতায় পাতায়।
কোথাও সময় থেমে গেছে গল্পের প্রয়োজনে, আবার কোথাও অস্থির হয়ে ছুটে চলেছে দুর্বার গতিতে। কোথাও কোনো ক্যাফে-র সামনে দাঁড়িয়ে আমরা মুগ্ধ হয়ে শুনেছি চরিত্রগুলোর কথোপকথন।
সস্তার হোটেল থেকে রহস্যময় গুম্ফা, নির্জন হোমস্টে থেকে মল রোডের কফি-শপ, গ্লেনারিস থেকে পাহাড়িগাঁও— এই উপন্যাসের চরিত্ররা সমানে খুঁজে চলেছে এক একটি প্রশ্নের উত্তর।
মাঝে মাঝে আলোর দেখা মেলে বটে তবে পরক্ষণেই আবার কুয়াশা এসে ঢেকে দেয় সব— চলতে থাকে আবেগের ওঠা-নামা। আসলে কী ঘটছে বা কী ঘটতে চলেছে তাদের সঙ্গে?
টানটান উত্তেজনায় ভরপুর অথচ গভীর অন্তর্মুখী এই গল্পের প্রতিটি পাতা উলটে মনে হয়— এর পর কী ঘটবে?
‘দার্জিলিং’ এবং ‘আনন্দ বসন্ত সমাগমে’… এই দুটি নভেলা, এবং ‘মিনাং মনাস্টারির অস্তর’ বড়ো গল্পটি থাকছে এই বইতে। ‘দার্জিলিং’ নামের অপ্রকাশিত নভেলার সঙ্গে পূর্ব প্রকাশিত ‘দার্জিলিং মেল’ বইটি যুক্ত হয়ে ‘দার্জিলিং এবং…’ নামে এই বইটি প্রকাশ করল ‘বুক ফার্ম’।
...