এ কোন রাক্ষস যে তার শিকারের শরীরে এঁকে দেয় আপন মুদ্রা? এ কোন আশ্রম যার বাতাসে ভারী হয়ে ভেসে থাকে মৃত্যুর গন্ধ? ঘটনাস্থল মহারাষ্ট্রের থানে। মীনাক্ষী ওল্ড এজ হোম। এক রাতে হঠাৎই খুন হয়ে যায় হোমের আর্দালি। গলা কাটা
দেহ। কপালে ব্লেডে খোদাই করা একটি অক্ষর- S। সেই অক্ষর থেকেই ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে ভয়াবহ এক অতীতের পর্দা। কৌশিক দাশের ডার্ক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার মুদ্রারাক্ষস-এ একইসঙ্গে বহমান তিন অন্ধকারের চোরাস্রোত- একটি নিষ্ঠুর রোগ, প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা এক সামাজিক হিংস্রতা এবং ভাবনারও অতীত ভয়াবহ, দানবীয় এক নির্যাতন। মধ্যচল্লিশ ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট কমলেশ রায় কি পারবেন এই বৃদ্ধাশ্রমে ঘটে চলা খুনগুলির কিনারা করতে? একটির পর একটি খুন- প্রতিটিতেই একই চিহ্ন। একই অক্ষর। কমলেশের অনুসন্ধান থানে ছাড়িয়ে পৌঁছয় উত্তরপ্রদেশের চিত্রকুটে- যেখানে সামাজিক নিষ্ঠুরতা একদা ছিন্নভিন্ন করেছিল তিনটি শিশুর শৈশব। মুদ্রারাক্ষস নিছক কোনও সিরিয়াল কিলিং-এর গল্প নয়, নয় কেবল অপরাধীকে ধরার কাহিনি। এ গল্প উঠে এসেছে বর্তমান ভারতে লুকিয়ে রাখা রূঢ়, কঠিন সত্য এবং অসহনীয় সামাজিক বাস্তব থেকে। এ গল্পে শুধু অপরাধের বিরুদ্ধে কোনও সত্যান্বেষীই নন, বিস্মৃতির বিরুদ্ধে লড়ছে স্মৃতি, অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়ছে আলো। আলোময় এ দুনিয়াকে পঙ্কিল নরকে পরিণত করতে ছদ্মবেশী যে রাক্ষসেরা বদ্ধপরিকর, এ উপন্যাস নির্ভীকভাবে তাদেরই মুখোশ খুলে দেয়।
...