‘হাড়’ উপন্যাস যেখানে শেষ হয়েছে, তার কুড়ি বছরের পরের কাহিনি নিয়ে আসছে দ্বিতীয় খণ্ড— হাড় (আবার আতঙ্ক...)! পটভূমি এবার ২০০৫! এবার আরও অন্ধকারাচ্ছন্ন জগতের কাহিনি। আরও ভয়ঙ্কর ঘটনাক্রম।
শিয়ালদহ স্টেশন থেকে প্রতি
নিয়ত হারিয়ে যায় শয়ে শয়ে শিশু। যাদের নিয়ে প্রশাসন থেকে পুলিশ, রাজনীতিবিদ থেকে সাধারণ মানুষ, কারও মাথা ব্যথা নেই। কী ঘটে তাদের ভাগ্যে? বাচ্চারা ছাড়াও শিয়ালদহ চত্বর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় অনেক সহায়সম্বলহীন মানুষও। যাদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না। যেন হাওয়ায় মিলিয়ে যায় তারা! কী হয় তাদের?
ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যশালী সংবাদপত্র ‘দ্য গার্ডিয়ান’, ‘দ্য অবজার্ভার’ পর্যন্ত সাংবাদিক পাঠিয়ে খবর করেছিল শিয়ালদহ স্টেশনের বাচ্চাগুলোকে নিয়ে। কিন্তু তাতে কি অন্ধকারে আদৌ আলো ফেলা গিয়েছিল?
শিয়ালদহ-মৌলালি-বউবাজার অঞ্চলে কাজ করে অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও। আছে কয়েকটি মিশনারি সংস্থাও। যাদের বিরুদ্ধে একটা বড় অভিযোগ ধর্মান্তরণের। বলা হয়, বাচ্চাদের ক্রিশ্চান বানিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এই সব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে। তারপরে হারিয়ে যায় সেই সব বাচ্চাও। সত্যিই কি তাই?
বাস্তব ঘটনার উপরে ভিত্তি করে লেখা এই কাহিনি পাঠকদের নিয়ে যাবে এক ভয়ঙ্কর দুনিয়ায়। যেখানে ঘুরে বেড়ায় এক মানুষখেকো! লোপাট হয়ে যায় আস্ত মানুষ।
কী হয় তারপরে?
১৯৮৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী আইন পাশ করে নিষিদ্ধ করে দেন মানুষের হাড়ের রফতানি। কিন্তু বৈধ ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলেও চোরা পথে ঠিকই পাচার হয়ে যায় মানুষের হাড়! নানা রাস্তা ঠিক বেছে নিয়েছে শয়তানরা। আর এবার শুধু হাড়ের রফতানি নয়, অর্থ উপার্জনের আরও ভয়ঙ্কর সব রাস্তা সামনে চলে এসেছে। যে রাস্তা ধরে হাঁটবেন আপনিও।
কুড়ি বছর পরে ফিরে আসছে ঝুমুর, সুচিত্রা, মেহবুব আলম।
আর ফিরে আসছে কালু।
পরিবার হারানোর পরে যার মন থেকে মুছে গিয়েছে দয়ামায়ার শেষ চিহ্নটাও। কালু এখন আর মানুষ নেই। কালু ফিরে আসছে ঝুমুরের দুনিয়ায়! কী হবে সেই সংঘাতের চূড়ান্ত পরিণতি?
এই কাহিনির একটা বড় চরিত্র স্বয়ং শিয়ালদহ স্টেশন। কত বছর ধরে তো যাতায়াত করেছেন শিয়ালদহ স্টেশন দিয়ে। কিন্তু অন্ধকারে চোখ গিয়েছে কখনও? কখনও খেয়াল করেছেন, কোন ভয়াল নাটক অভিনীত হয়ে চলেছে প্ল্যাটফর্মের আনাচে-কানাচে?
হাড়-এর এই দ্বিতীয় পর্ব আপনাদের নিয়ে যাবে সেই অন্ধকার জগতে! যা আপনাদের একেবারে চোখের সামনে হলেও আড়ালে থেকে গিয়েছে। এবার সামনে আসবে সেই জগৎ...আর রক্তাক্ত হবেন পাঠকরা।
বইয়ের পাতায় খুঁজে নিন সেই ভয়াল জগতকে।
কিন্তু ওই যে বললাম, দুর্বল হৃদয় হলে এড়িয়ে যাওয়াই ভাল!
কালু আসছে...সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে!
...