কলিকাতা ১৮৩০।
ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী তখন বিভক্ত হোয়াইট আর ব্ল্যাক টাউনে। এই কলিকাতা শহরেই হঠাৎ গুম হতে থাকল একের পর এক বাঈজী। আকস্মিকভাবেই কীভাবে যেন উধাও হয়ে যাচ্ছে তারা। কোথাও কোনও চিহ্নই নেই! দালালদের অ
িযোগের সূত্র ধরে শুরু হল পুলিশি তদন্ত। ক্রমশ উন্মোচিত হতে থাকল শহরের ইতিহাসে হয়তো-বা সবচেয়ে বড়ো স্ক্যান্ডাল- প্রবল প্রতাপশালী এক ধনাঢ্য জমিদার এবং তাঁর পরিবারের নারকীয় কুনীর্তি। সেই কেচ্ছার সঙ্গে একে একে জড়িয়ে পড়ল সমসাময়িক আরও অনেক রাঘববোয়ালের নাম। ঘটনাচক্রে তাঁরাও সকলে অভিজাত জমিদার শ্রেণি। স্বয়ং বড়োলাট উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের নামও জড়িয়ে পড়ে এই ঘটনায়! কিন্তু বর্তমান ইতিহাসে সেই ঘটনার কোনো উল্লেখ নেই। কী সেই ঘটনা যাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এত আয়োজন? কে সেই নরপশু জমিদার যাঁর অপরিসীম লোভ, রিরংসা, ইন্দ্রিয়াসক্তি আর যৌনবিকৃতির শিকার একের পর এক অপরূপা সব নারী- নৃত্যগীত ছিল যাদের পেশা! কিছুটা ভিক্টোরীয় নীতিবাদী মানসিকতার প্রভাবে আর কিছুটা পরবর্তী প্রজন্মের হিরণ্ময় নীরবতায় কালের গর্ভে একসময় চাপা পড়ে যায় শোষণ, বঞ্চনা ও প্রতারণার সেই কুখ্যাত ইতিহাস। যুগপৎ ধর্ষকামী ও মর্ষকামী সেই অন্ধকার সময়ের পর্দা- যার পিছনে অশ্রুত রয়ে গেছে অনেক নূপুরের ধ্বনি, অনেক অস্ফুট কান্না, অনেক হা-হুতাশ, দীর্ঘশ্বাস- পুনরায় উন্মোচিত হচ্ছে সৌরভ চক্রবর্তীর দুঃসাহসী ঐতিহাসিক থ্রিলার রাজনর্তকী উপন্যাসে। স্মর্তব্য: দুর্বল হৃদয়, অপরিণতমনস্ক পাঠকদের জন্য এই উপন্যাস নয়। প্রাপ্তবয়স্করাই কেবল এই লেখা পড়বেন।
*প্রাপ্তবয়স্ক না হলে এই বই হাতেও তুলবেন না।*
...